Published : 21 Aug 2026, 02:16 PM
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ)-এর সম্মিলিত রূপ নিয়ে গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল করতে নতুন এক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা যাত্রা শুরু করল। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করে এই কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এই আইনের ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরকার ২০ আগস্ট থেকে নতুন কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ঘোষণা করে। বিলুপ্ত হওয়া বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এখন থেকে সমস্ত কার্যক্রম ইনভেস্ট বাংলাদেশ নামে পরিচালিত হবে এবং নতুন টিম ও উইং গঠনের কাজ শুরু হচ্ছে।
রহমান আরও যোগ করেন, কয়েক মাসব্যাপী প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই আত্মপ্রকাশে আনন্দিত। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘকাল ধরে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সকল সেবার জন্য একটি একক প্ল্যাটফর্মের দাবি তুলেছিলেন, আর সেই দাবি পূরণের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সমন্বিত, নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। নতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এবং এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করা সম্ভব হবে। কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান এবং সাতজন সদস্য নিযুক্ত হবেন, যার মধ্যে চেয়ারম্যান হবেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এই নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সুপ্ত সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের পথে আসা সকল বাধা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় সাধন করা।
একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ-এর সমস্ত সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা এবং অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীও নতুন সংস্থার অধীনে কাজ করবেন। এই সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবার মান উন্নত করা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একীভূতকরণের প্রক্রিয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।।
যে যারা পালিয়ে যায়, তারা আর ফিরে আসে না: শফিকুর রহমানের ঐতিহাসিক বার্তা