Published : 06 May 2026, 12:07 PM
ভারতের মহারাজা সায়াজিরাও ইউনিভার্সিটি অব বরোদার সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি নতুন কোর্স চালু করেছে, যেখানে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সরাসরি পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ‘মোদি-দর্শন’ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর আদর্শের উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া কোর্সগুলো। সমাজবিজ্ঞান শিক্ষাদানে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘মোদি-দর্শনে’ কী থাকছে? এই কোর্সে মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বগুণ এবং তাঁর শাসনকার্যপ্রণালী বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা সমাজতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর কর্মপদ্ধতি, যোগাযোগ দক্ষতা এবং গৃহীত নীতিগুলোর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবে। এছাড়াও, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো এবং সমাজে এর প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হবে।
আরএসএসের আদর্শ: সংশোধিত পাঠ্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আরএসএস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। এই কোর্সে শিক্ষার্থীরা সংগঠনটির উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবে। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ, পরিবেশ সুরক্ষার ধারণা এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে বিশেষ ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে আরএসএসের কর্মপদ্ধতি এবং সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে। নতুন কী কী কোর্স অনুমোদন পেয়েছে? বোর্ড অব স্টাডিজ insgesamt চারটি নতুন কোর্সের অনুমোদন দিয়েছে। এই কোর্সগুলো ভারতের সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ‘অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব’ নামক একটি অংশে বিনায়ক দামোদর সাভারকর, শ্রী অরবিন্দ এবং বি আর আম্বেদকরের দর্শন পড়ানো হবে।
একইসঙ্গে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ এবং তৃতীয় সায়াজিরাও গায়কোয়াড়ের শাসন ও সংস্কারকার্য সম্পর্কেও শিক্ষা দেওয়া হবে। ‘জাতীয়তাবাদ’ নামের অন্য একটি কোর্সে জাতি ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত ধারণাগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী বলছে? সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. বীরেন্দ্রসিং জানান, শিক্ষার্থীদের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘নীতি আয়োগ’-এর মতো সরকারি নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা কাজের সুযোগ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা এমনিতেই শাসনব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহী হয়েছে। তাই এই বিষয়গুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা একটি স্বাভাবিক পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করে, এই পরিবর্তনের ফলে সমাজবিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা আরও বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা বাস্তবতার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে পারবে।।