Published : 08 May 2026, 06:06 AM
বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে তিনি এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি হুবহু তুলে ধরা হলো: বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কণ্ঠস্বর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর অমর স্মৃতিকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ ছিল তাঁর সৃজনশীলতার প্রধান লক্ষ্য। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য, চিত্রকলা—সবকিছুতেই মানুষ, মানবতা, শান্তি, প্রেম ও প্রকৃতির জয়গান করেছেন তিনি। তাঁর শিল্পকলা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনকালে আন্তর্জাতিকতাবাদের মর্ম উপলব্ধি করে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন।
আমাদের জাতীয় জীবনে বিশ্বকবির অবদান অনস্বীকার্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ছিল অসীম প্রেরণার উৎস। রবীন্দ্রসাহিত্যে বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা সততার সাথে প্রতিফলিত হয়েছে। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে রবীন্দ্রনাথকে আমরা পেয়েছি, তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কথা বলেছেন। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ আজ আমাদের জাতীয় সংগীত। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের এই সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেন। বহুত্ববাদী সংস্কৃতি, অহিংস দর্শন ও বাংলার মরমি ভাবধারাকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পরম মমতায়।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত, উগ্রবাদ ও হানাহানির পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে। মানুষের কল্যাণে রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন এবং নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্য শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি শুধু পুঁথিগত শিক্ষার ওপর জোর দেননি, ব্যবহারিক শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। মানবতাবাদী কবি রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্বের দুয়ার খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক, এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।।
বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: দেশীয় স্বার্থে মার্কিন চুক্তির ধারা পরিবর্তনে সুযোগ