Published : 06 Mar 2026, 05:05 PM
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে স্থানীয় বাজারে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাতক্ষীরার পেট্রলপাম্পগুলোতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তেল কেনার জন্য মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। শহরের এবি পাম্প, কপোতক্ষ পেট্রলপাম্প, লস্কর ফিলিং স্টেশনসহ প্রায় প্রতিটি পাম্পে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পাম্পের মালিকেরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ তেল কিনতে আসছেন। এই বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে কিছু পাম্প তেল বিক্রির পরিমাণ সীমিত করে দিয়েছে, কোথাও কোথাও একজন ক্রেতাকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক হাসেম আলী জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ কমে যেতে পারে বা দাম বাড়তে পারে—এমন একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাই অনেকেই আগে থেকেই তেল কিনে রাখছেন।
শ্যামনগরে যাতায়াত করা ইদ্রিস আলী বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে তাঁর কমপক্ষে পাঁচ লিটার পেট্রলের প্রয়োজন। তেল না পেলে তাঁর সমস্যা হবে, তাই তিনি মোটরসাইকেলের ট্যাঙ্কটি ভর্তি করে তেল কিনতে এসেছেন। তবে পাম্পমালিক ৩০০ টাকার বেশি তেল দিতে রাজি নন। পাম্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। শুধুমাত্র গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে এমন একটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার প্রায় প্রতিটি পেট্রলপাম্পেই একই চিত্র দেখা গেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন জনসাধারণকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেছে।
সাতক্ষীরা এবি খান পেট্রলপাম্পের স্বত্বাধিকারী আহসানুল কবির খান জানান, খুলনার দিক থেকে তাঁদের কাছে আসা পেট্রলের সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে পেট্রল ও অকটেন সংকট হতে পারে—এই আশঙ্কায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের চালকেরা তেল কিনতে আসছেন। তবে তিনি আশা করছেন, তিন-চার দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পেট্রলের দাম বৃদ্ধি সম্পূর্ণরূপে সরকারি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।।