Published : 08 May 2026, 01:06 PM
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস মনে করেন, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো ক্রমশ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের চেয়ে বাণিজ্যিক সাফল্যের দিকে ঝুঁকছে। এই প্রবণতা সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎকে সংকটে ফেলতে পারে। শুক্রবার সকালে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। জাফর আব্বাস ডনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তাঁদের পত্রিকা বহু সাহসী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার জন্য অনেক মূল্যও দিতে হয়েছে। তিনি জানান, পাকিস্তানের একজন নির্ভীক সাংবাদিক একটি আবাসন কোম্পানির দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন করার পর, সেই কোম্পানি অন্যান্য সংবাদপত্রে ডনের বিরুদ্ধে পুরো পৃষ্ঠার বিজ্ঞাপন দেয়। হতাশাজনকভাবে, অন্যান্য পত্রিকাগুলো লাভের আশায় সেই বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে রাজি হয়। আলোচনায় গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রণ (সেলফ-সেন্সরশিপ) প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে উঠে আসে।
জাফর আব্বাস বলেন, সরাসরি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ অনেক বেশি বিপজ্জনক। প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থাকলে অন্তত জনগণের কাছে বলা যায় যে সামরিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। কিন্তু ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’-এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও তা প্রকাশ না করার কারণ বলা যায় না। এই অদৃশ্য চাপ মোকাবিলা করা কঠিন। তিনি মনে করেন, গণমাধ্যম মালিকেরা যদি ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ মেনে চলেন, তাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাঁচানো কঠিন হবে। কারণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রধান কাজ হলো বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি উন্মোচন করা। এই প্রবণতা চলতে থাকলে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। টরন্টো স্টারের প্রাক্তন সম্পাদক মাইকেল কুক বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
গভীর বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের পাশাপাশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন একটি সংবাদমাধ্যমকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। এ ধরনের কাজ করতে শুধু সাংবাদিকের সাহস নয়, সম্পাদক, মালিক ও আইনজীবীর সমর্থনও প্রয়োজন। কারণ বড় অনুসন্ধান কখনো একা করা সম্ভব নয়। মাইকেল কুক আরও বলেন, সাংবাদিকেরা গণতন্ত্রের পক্ষে এবং দুর্নীতি ও গোপনীয়তার বিরুদ্ধে কাজ করেন। গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও তাঁদের সম্পাদকরা সামনের সারিতে থেকে লড়াই করে যাচ্ছেন।।
২৩ দিনের বিরতির পর প্রাণ ফিরে পেল ইস্টার্ন রিফাইনারি, শনিবার থেকে তেল সরবরাহ শুরু