Published : 08 May 2026, 04:07 PM
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে কি একটি ছোট ভুলই থালাপতি বিজয়ের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালো? প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে তার দল টিভিকে (টিভিকে) একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম থাকার কারণে সরকার গঠনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানানোর সময় বিজয়ের একটি কৌশলগত ভুলই এই সমস্যার সৃষ্টি করেছে। সাধারণত, নির্বাচনে জয়ী হওয়া দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানায়। এরপর বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হয়। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। টিভিকে ১০৮টি আসন পেলেও, বিজয়ের দুটি আসন ছেড়ে দিতে হওয়ায় কার্যকর শক্তি কমে দাঁড়ায় ১০৭-এ। ম্যাজিক ফিগার ১১৮-এর থেকে এটি ১১টি কম।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ৫টি আসন দিয়ে সমর্থন জানালে, টিভিকে ও কংগ্রেসের সম্মিলিত শক্তি দাঁড়ায় ১১২-এ। কিন্তু কোথায় ভুল করলেন বিজয়ের টিভিকে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬ মে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের কাছে দাবি পেশ করার সময় বিজয় একটি ভুল পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি যে চিঠি দিয়েছেন, তাতে টিভিকে বিধায়কদের পাশাপাশি কংগ্রেসের বিধায়কদের স্বাক্ষর ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ের উচিত ছিল প্রথমে শুধুমাত্র টিভিকে-র ১০৮ জন বিধায়কের তালিকা জমা দেওয়া। এতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে তার দাবি আরও জোরালো হতো। কিন্তু শুরুতেই কংগ্রেসের বিধায়কদের স্বাক্ষর যুক্ত করায়, বিজয় প্রকারান্তরে জোট সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে রাজ্যপাল একক বৃহত্তম দল হিসেবে নয়, বরং জোট হিসেবে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়কের স্বাক্ষর জমা দিতে বলেছেন। দ্বিতীয় দফা বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি।
তামিলনাড়ুর রাজভবন থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন বিজয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিত কুমার সিন্ধি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বিজয় যদি শুধুমাত্র একক বৃহত্তম দল হিসেবে নিজের দাবি পেশ করতেন, তাহলে হয়তো সেই দাবি গৃহীত হতো।’ আরেকজন সাংবাদিক মন্তব্য করেছেন, ‘বিজয় যদি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পরামর্শক নিতেন, তাহলে হয়তো আজ তার শপথগ্রহণ সম্পন্ন হতো।’ ৫১ বছর বয়সী বিজয়ের এটিই প্রথম বড় নির্বাচন। এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও তার দলের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। টিভিকে-র বিধায়কদের গড় বয়স মাত্র ৪৪ বছর। বিজয়ের দলে অভিজ্ঞতার একমাত্র ভরসা প্রবীণ নেতা কে এ সেনগোট্টায়ান, যিনি গত বছর এআইএডিএমকে থেকে টিভিকে-তে যোগ দিয়েছেন।।
২৩ দিনের বিরতির পর প্রাণ ফিরে পেল ইস্টার্ন রিফাইনারি, শনিবার থেকে তেল সরবরাহ শুরু