Published : 10 May 2026, 02:07 PM
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘টাকার সঠিক ব্যবহার, বিনিয়োগের লাভ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশের সুরক্ষার’—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত না হলে কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে না। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে ‘স্টেপিং ফরোয়ার্ড: দ্য ইনাগুরেশন অব রেইজ-২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা কমিশনে জমা পড়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্পের মধ্যে অনেকগুলোই জনগণের জন্য তেমন উপযোগী নয়। তাই সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। সরকার এখন বড় অবকাঠামোর চেয়ে সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, “যেসব প্রকল্প এই চারটি শর্ত পূরণ করতে পারবে না, সেগুলো আমরা করব না। কারণ এটা সরকারের অর্থ নয়, এটা বাংলাদেশের মানুষের কষ্টেরার্জিত ট্যাক্সের টাকা।
” অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করার ওপর তিনি জোর দেন। সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে খরচ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি জানান। স্বাস্থ্যখাতে ব্যক্তিগত খরচের বিষয়টি উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের ‘আউট অব পকেট’ স্বাস্থ্য ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই সরকার প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে তিনি সৃজনশীল অর্থনীতি ও গ্রামীণ কুটির শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। কামার, কুমার, তাঁতি ও হস্তশিল্পের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজাইন তৈরি, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ এই ধারণার ওপর কাজ করতে চায়, যাতে একটি গ্রামের মানুষ একটি নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে সংগঠিতভাবে বাজারে প্রবেশ করতে পারে। বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘রেইজ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন করে ২ লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে ১ হাজার ৬০০ নারীকে ‘বাড়িতেই শিশু পরিচর্যা’ উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন ৪ লাখ ২৩ হাজার ১০০ জন। দ্বিতীয় পর্যায়ে চর, হাওর, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া, দলিত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী তরুণদের অন্তর্ভুক্তিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদে ইস্তফা দিলেন সাইফুদ্দীন আহমদ