Published : 03 Jan 2026, 07:07 PM
মানবদেহের জন্য আয়োডিন একটি অপরিহার্য উপাদান। যদিও এর দৈনিক চাহিদা সামান্য, তবুও থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হরমোন আমাদের বৃদ্ধি, শরীরের কার্যকারিতা এবং মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে। একসময় বাংলাদেশে আয়োডিনের অভাব একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল, যার কারণে গলগণ্ড রোগ, মানসিক বিকাশে বাধা, বন্ধ্যাত্ব, গর্ভাবস্থায় জটিলতা এবং শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতো। সার্বজনীন লবণ আয়োডিনকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হলেও, আয়োডিনের অভাব এখনও সম্পূর্ণরূপে দূর হয়নি। বর্তমানে, আয়োডিনযুক্ত লবণের নিয়মিত ব্যবহার না করা এবং লবণের গুণগত মান কমে যাওয়াই প্রধান সমস্যা। অনেক সময় লবণে আয়োডিনের পরিমাণ যথেষ্ট থাকে না, অথবা ভুলভাবে সংরক্ষণ ও রান্নার সময় আয়োডিন নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ও কম আয়ের মানুষের মধ্যে খোলা বা পরিশোধন করা হয়নি এমন লবণ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া, অনেকে আয়োডিনযুক্ত লবণের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতন নন।
এই পরিস্থিতিতে, আয়োডিনের অভাব দূর করতে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। প্রথমত, সার্বজনীন লবণ আয়োডিনকরণ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বাজারে বিক্রি হওয়া ভোজ্য লবণে সঠিক পরিমাণে আয়োডিন আছে কিনা, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। ভেজাল বা কম আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন ও বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম, স্কুল ও স্থানীয় পর্যায়ে আয়োডিনের উপকারিতা এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রচার চালাতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার, কারণ তারা আয়োডিনের অভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যখাতে আয়োডিনের অভাব শনাক্তকরণ ও এর প্রতিকার জোরদার করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় থাইরয়েড রোগ ও আয়োডিনের অভাব নির্ণয়ের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় আয়োডিন গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া উচিত। এছাড়া, আয়োডিনযুক্ত লবণের সঠিক সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। লবণ সবসময় মুখবন্ধ পাত্রে রাখা উচিত এবং রান্নার একদম শেষে লবণ যোগ করলে আয়োডিনের অপচয় কম হয়। পরিশেষে বলা যায়, আয়োডিনের অভাব একটি প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা। সরকার, স্বাস্থ্যখাত, খাদ্যশিল্প এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে আয়োডিনের অভাব সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা যেতে পারে। ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদে ইস্তফা দিলেন সাইফুদ্দীন আহমদ