Published : 10 Jan 2026, 07:08 PM
বছর কয়েক আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি লেখা লিখেছিলাম—‘প্রিয় দেশবাসী, আদাব। সামনে জাতীয় নির্বাচন। অনেক তরুণ, নতুন মুখ নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তাঁরা দেশ ও রাজনীতির পরিবর্তনে আগ্রহী, আপনারা তাঁদের উৎসাহ দিচ্ছেন, দোয়া করছেন। এ বছর অনেকেই নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জনগণের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইছেন, একে ক্রাউড ফান্ডিং বলা হয়।...এই ধারণাটি আমাকেও অনুপ্রাণিত করেছে। তবে আমি নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছি না। রাজনীতি আমার পেশা নয়, দেশ পরিবর্তনের ক্ষমতাও আমার নেই। ওগুলো অনেক বড়দের কাজ। আমি একজন সাধারণ চিকিৎসক। আমি রক্তক্যানসারের চিকিৎসা করি। আমার রোগীরা মূলত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। আমি যে হাসপাতালগুলোতে কাজ করি, সেখানে বড়লোকেরা সাধারণত আসেন না। আমার অনেক রোগী অর্থের অভাবে চিকিৎসার মাঝপথে থেমে যেতে বাধ্য হন। সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন না। গত কয়েক বছরে এমন অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা দেখেছি। ভাবছি, আমিও ক্রাউড ফান্ডিংয়ের পথে হাঁটব। আমার রোগীদের জন্য এই ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সাহায্য চাইব।
সামাজিক মাধ্যমে আমার বিকাশ নম্বর দেব। কেউ যদি আমাকে ‘বিকাশ গুলজার’ বলেন, আমি আপত্তি করব না।...রক্তক্যানসারের রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনেক খরচ হয়। তাসনিম জারা ৪৭ লক্ষ টাকা পেয়েছেন, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে কমপক্ষে ২০ জন রক্তক্যানসার রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব। আমি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করব। যে কেউ এসে দেখতে পারবেন, কোন রোগীকে কত টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমার এই ঘোষণায় কোনো ভড়ং নেই, কোনো ফাঁকা আওয়াজ নেই। কারণ, আমার কাজের ক্ষেত্র সবারই জানা। আমার কাছে কোনো হাইপোথেটিক্যাল ইস্যু নেই। আমার কাজ খুবই স্পষ্ট এবং বাস্তবসম্মত। আমি চাই, আপনারা কিছু মানুষের জীবন ও মৃত্যুর মাঝে এসে দাঁড়ান। যদি কোনো রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে, তাহলে আমাদের আনন্দ হবে। আর যদি না পারেন, তবুও আমরা বলতে পারব, ‘আমরা তাঁকে একা ছেড়ে দিইনি।’ এই বিষয়ে আপনাদের মতামত জানতে চাই।’ এই স্ট্যাটাসের সাথে আমি আমার বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর যুক্ত করেছিলাম। অ্যাকাউন্ট দুটি থেকে আগে থেকেই ব্যক্তিগত টাকা সরিয়ে নিয়েছি। ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এখন এই অর্থ গরিব রোগীদের হাতে তুলে দেব।
সহায়তা হিসেবে প্রথমে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে আমার যে রক্তক্যানসারের রোগীরা আছেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প শুরু করছি। এটি একটি ট্রাস্টি হাসপাতাল, মূলত দরিদ্র রোগীদের জন্যই তৈরি। আপনারা হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, আমি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিজি হাসপাতাল) একজন সহকারী অধ্যাপক। তাহলে ওখানে কেন নয়? পিজি হাসপাতাল একটি বড় প্রতিষ্ঠান। সেখানে হঠাৎ করে এমন কাজ শুরু করা কঠিন। তাছাড়া ওখানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ফান্ড খুব বড় না হলে সামান্য ঝামেলাতেও পড়তে হতে পারে। তবে একেবারে করা যাবে না, এমনও নয়। প্রথম রোগী হিসেবে একজনকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। তাঁর আগামী দুই মাসের কেমোথেরাপির ব্যবস্থা হয়ে গেছে। ভদ্রলোক ভেবেছিলেন, আর হয়তো চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। মন খারাপ করে বলছিলেন, ‘স্যার, আর পারছি না। বাড়ি যাই। দেখি কিছু ব্যবস্থা হয় কি না।’ এই যে মানুষটি অনিশ্চিত পথে আশা খুঁজে পেলেন, আশায় বুক বাঁধতে পারলেন, এর মূল্য কী দিয়ে পরিমাপ করা যায়, আমি জানি না। এরপর আরও দু’জন সহায়তা পাবেন। তাঁরা আমাদের দিকে যে দৃষ্টিতে তাকাবেন, সেই দৃশ্যটি আমি মনে মনে কল্পনা করছি। আরও পড়ুনডাকাতদের কবলে পড়ে সুন্দরবনে ৫৬ ঘণ্টা যেভাবে কেটেছে৮ ঘণ্টা আগে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদে ইস্তফা দিলেন সাইফুদ্দীন আহমদ