Published : 10 May 2026, 11:07 AM
আমার আজকের মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে আমার মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগ, অফুরন্ত ভালোবাসা আর অদম্য সাহস রয়েছে। ছোটবেলায় দেখেছি, মা শুধু ভালো ফল করার দিকে নজর দিতেন না, বরং সবসময় বলতেন, ‘প্রথমে মানুষ হও, তারপর সার্টিফিকেট’। তাই তিনি আমাকে পড়াশোনার বাইরের জগৎটাও হাতে ধরে চিনিয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে মা নিয়মিত আমাকে আর ছোট ভাইকে কিশোর আলোর ‘কিআড্ডা’য় নিয়ে যেতেন। সেখানে নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেতাম। নিজের মতামত প্রকাশ করা এবং অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার মতো ছোট ছোট অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে আমার ভেতরের জড়তা দূর করে দিয়েছে। আমি শিখেছি কীভাবে ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, কীভাবে নিজের ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে বলতে হয়। এই অভিজ্ঞতাগুলোই আমার ব্যক্তিত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে। আরও পড়ুন‘আমি কমেন্ট পড়েও দেখি না’, বললেন কারিনা। ০৮ মার্চ ২০২৫। জীবন সবসময় মসৃণ হয় না। একটা সময় পড়াশোনার চাপ, ভেতরের অস্থিরতা—নানা কারণে আমি ভেঙে পড়েছিলাম।
মনে হতো চারপাশ থেকে দেয়াল চেপে আসছে। রাতে ঘুম আসত না, সকালে বিছেনা থেকে উঠতে ইচ্ছে করত না। মা চুপচাপ আমার পাশে বসতেন। একদিন শুধু বললেন, ‘বাবা, ঝড় তো চিরকাল থাকে না। ছাতাটা শক্ত করে ধরো, রোদ উঠবেই।’ কোনো বড় উপদেশ নয়, কিন্তু সেই কথাটাই আমাকে আবার টেবিলের সামনে বসিয়েছিল। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাংলাদেশে সীমিত। তাই শুরুতে আমি বেশ হতাশ ছিলাম। কিন্তু মা ও বন্ধুরা সবসময় আমার পাশে ছিলেন। এরপর এল জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ—অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া। এয়ারপোর্টে লাগেজ হাতে দাঁড়িয়ে যখন শেষবার মাকে জড়িয়ে ধরলাম, তাঁর চোখ ছলছল করছিল, কিন্তু মুখে ছিল হাসি। তিনি বললেন, ‘ভয় পেয়ো না, আমি ফোনের ওপাশে আছি।
’ সিডনিতে প্রথম কয়েক মাস কঠিন ছিল। নতুন শহর, নতুন মানুষ, একা ঘর। রোজ রাতে মা ফোন করতেন। জিজ্ঞেস করতেন, ‘আজ কী রান্না করেছিস? ক্লাস কেমন হলো?’ তাঁর কণ্ঠস্বর শুনলেই মনে হতো আমি একা নই। ধীরে ধীরে এই শহরটাও আমার আপন হয়ে উঠল। আজ আমি অস্ট্রেলিয়ার টরেন্স ইউনিভার্সিটিতে কমিউনিটি সার্ভিস নিয়ে পড়াশোনা করছি। প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগে ভাবি, মা দেখলে কী বলতেন। আমার সকল অর্জনের পেছনে একটাই নাম—মাফরুহা খন্দকার। তিনি শুধু আমার মা নন, আমার সাহস, আমার শিকড়, আমার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। জীবন যতবার এলোমেলো হবে, আমি জানি, একটা ফোনকলের দূরত্বে আমার পৃথিবীটা ঠিকই দাঁড়িয়ে আছে। আরও পড়ুনকেয়া পায়েলের অভিনয়ের ভেতরে একটা অদ্ভুত সততা আছে: মোস্তফা কামাল রাজ। ২০ ঘণ্টা আগে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদে ইস্তফা দিলেন সাইফুদ্দীন আহমদ