Published : 10 May 2026, 03:08 PM
তখন আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি। শরীরচর্চার অংশ হিসেবে পরীক্ষার আগে হাতে তৈরি শিল্পকর্ম জমা দিতে হতো। আগে আমি কাগজ বা মাটি দিয়ে তৈরি করতাম। কিন্তু এবার একটু অন্যরকম কিছু করার কথা ভাবলাম। হাতে সময় ছিল মাত্র দুই দিন। বিষয়টা আম্মুকে জানালাম। তিনি বললেন, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে। রাতের খাবারের পর একটু ভেবে দেখি।’ আম্মুর কথা শুনে আমি কিছুটা আশ্বস্ত হলাম। তিনি রাজি হয়েছেন, তার মানে নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে।যথারীতি রাতের খাবার শেষ করলাম। আম্মু ডেকে বললেন, ‘যাও তো, রান্নাঘর থেকে পুরোনো তিন-চারটা ম্যাচবক্স, সেলাই মেশিনের অবশিষ্টাংশ, কাঁচি আর আঠা নিয়ে এসো।’আমি সেগুলো নিয়ে হাজির হলাম। আম্মু আমার হাতে কাপড়ের টুকরাগুলো দিয়ে বললেন, ‘এগুলো সুন্দর করে বর্গাকারে কেটে দাও তো।
’আমি কাঁচি দিয়ে কাপড়গুলো কাটলাম, আর আম্মু ম্যাচবক্স দিয়ে কী বানাতে যাচ্ছেন, সেদিকেও নজর রাখলাম।আরও পড়ুনঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি মায়ের সে কী কান্না৪০ মিনিট আগে আম্মু দুটো ম্যাচবক্স আঠা দিয়ে জোড়া লাগালেন। কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আমরা ম্যাচবক্স দিয়ে কী করতে যাচ্ছি?’ তিনি হেসে বললেন, ‘আগে যদি বলে দিই, তাহলে কাজের আনন্দটা চলে যাবে। আমি যা করি, তুমি দেখো আর একটু সাহায্য করো। করতে করতে তুমিই বুঝে যাবে, এখানে কী হচ্ছে।’ম্যাচবক্স দুটো জোড়া দেওয়ার পর তার ওপর সমান করে একটা নাইলনের কাপড় আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হলো।বাকি চারটি ম্যাচবক্স ছিল। আম্মু একটা ম্যাচবক্স একটু কাত করে তার ওপর মখমলের কাপড় আঠা দিয়ে লাগালেন, তারপর লম্বালম্বি আরেকটা ম্যাচবক্স আঠা দিয়ে জোড়া দিলেন। সেই ম্যাচবক্সের ওপরও একটা মখমলের টুকরা কাপড় লাগালেন। সেটা দেখে আমিও পরের দুটো ম্যাচবক্স জোড়া দিয়ে রঙিন কাপড়ের টুকরা লাগিয়ে দিলাম।ম্যাচবক্সের পেছনের যে অংশগুলোতে কাপড় লাগানো হয়নি, সেই অংশগুলো লাল কাপড়ে মুড়ে দেওয়া হলো। এখন পুরো শিল্পকর্মটা একটা নতুন রূপ পেতে শুরু করেছে। এটা আসলে ম্যাচবক্স দিয়ে তৈরি একটি সোফাসেট। তবে এখনো আরেকটা কাজ বাকি।
আম্মু বললেন, ‘জিনিসটা দেখতে ভালো লাগছে। তবে এটা আরও সুন্দর হবে যদি আমরা এটাকে কোনো রঙিন বাক্সে রাখি। যাও, রান্নাঘরে একটা মিষ্টির বাক্স পড়ে আছে, আর খাটের নিচে র্যাপিং পেপার আছে, একটু নিয়ে এসো।’ আমি মিষ্টির বাক্স আর র্যাপিং পেপার নিয়ে এলাম। আম্মু মিষ্টির বাক্সটা পরিষ্কার করলেন। আঠার সাহায্যে র্যাপিং পেপার দিয়ে মিষ্টির বাক্সটা মুড়ে দিলেন। তারপর মিষ্টির বাক্সের ভেতরে রঙিন জরির কাপড় আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিলেন, আর ম্যাচবক্সের সোফাসেটগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেন। দেখতে সত্যিই অসাধারণ লাগছিল।আমরা শিল্পকর্ম তৈরিতে এতটাই মগ্ন ছিলাম যে কখন রাত একটা বেজে গেল, টেরই পেলাম না। মনে একটা শান্তি নিয়ে ঘুমাতে চলে গেলাম।দুই দিন পর আমি মনে বড় আশা নিয়ে সেই ম্যাচবক্সের সোফাসেট জমা দিলাম। স্যার-ম্যাডাম আমার শিল্পকর্ম দেখে খুব প্রশংসা করলেন।৩৭ আকুয়া জুবিলী কোয়ার্টার, ময়মনসিংহ।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদে ইস্তফা দিলেন সাইফুদ্দীন আহমদ